Back  
Print This Document

প্রযুক্তির বিবরণ

প্রযুক্তির নাম :বারি পানিফল-১ এর উৎপাদন কলাকৌশল

বিস্তারিত বিবরণ : 

উপোযোগী এলাকাঃ পানিফল নিচু এলাকার মৌসুমী ফল। পানিফল চাষের জন্য উষ্ণ ও অর্দ্র জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী। বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য পানির তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গাছের বৃদ্ধির জন্য ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস উত্তম। পানিফল বৃদ্ধির জন্য পানির নিচে আবশ্যিকভাবে ১৫ সেন্টিমিটার কাদামাটি থাকা প্রয়োজন। জমির তলদেশের মাটি বেলে থাকলে ফলন অনেকাংশে কমে যায়। ভাল ফলনের জন্য জমিতে পানির গভীরতা ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ২.৫ মিটার থাকা বাঞ্চনীয়। বাংলাদেশে জামালপুর, বগুড়া, নওগাঁ এবং সাতক্ষীরায় পানিফল বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।
রোপন সময়ঃ পূর্বের বছরের পানিফলের গাছ থেকে পরিপুষ্ট ফল সংগ্রহ করে বীজ হিসেবে ব্যবহার করকে হবে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহের মধ্যে বীজতলায় বীজ ফেলতে হবে। এই সময় পানির গভীরতা ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার থাকা প্রয়োজন। ৪ থেকে ৫ টি পাতাযুক্ত চারাগাছকে জুন মাস থেকে জুলাই মাসের ২য় সপ্তাহের মধ্যে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় পানির গভীরতা ৬০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার হওয়া প্রয়োজন। পূর্ববর্তী বছরের পুরাতন গাছ হতে স্টোলন বের হয়, এগুলিও কেটে কেটে চারা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। রোপন দুরত্বঃ চারাগাছগুলি সারি থেকে সারি ১.৫ মিটার এবং গাছ থেকে গাছ ১.৫ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে কাদা মাটিতে হাত বা পা এর সাহায্যে পুঁতে দিতে হবে।
পরিচর্যাঃ গাছের ভালো ভাবে বৃদ্ধির জন্য চারা রোপণের পর থেকে দুই মাস পর্যন্ত নিয়মিতভাবে জলজ আগাছা তুলে ফেলতে হবে। গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য ফুল আসার কিছুদিন আগে অতিরিক্ত ডালাপালা ছেঁটে দিতে হবে। ফল সংগ্রহের সময়ঃ সেপ্টেম্বর মাস থেকে ফসল তোলা শুরু হয় এবং তা চলতে থাকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। ফল তোলার সময় ফলের আকার দেখে তা সংগ্রহ করতে হবে। ফল তোলার শুরুর দিকে ১৫ দিনে একবার ফল তুলতে হয়, পরে তা সপ্তাহে একবার এবং নভেম্বর মাসে প্রায় প্রত্যেক দিনই ফল তোলা যায়।
রোগবালাইঃ পানিফলে রোগবালাই এর আক্রমণ অনেক কম। পানিফলে নিম্ন মাত্রায় রোগবালাই এর সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। পানিফলে পাতা পচা, কান্ডপচা, মূল পচা ও ফল পচা রোগ দেখা দেয়। এছাড়া পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া ও চারা গাছের ফিউজেরিয়াম উইল্ট রোগের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। রোগবালাই দমন ব্যবস্থাঃ ছত্রাকের কারনে পাতায় পচন দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক এক লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে দশ থেকে পনের দিন পর পর দুই থেকে তিন বার স্প্রে করতে হবে। কান্ডপচা, মূল পচা ও ফল পচা রোগ দেখা দিলে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক এক লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে দশ থেকে পনের দিন পর পর দুই থেকে তিন বার স্প্রে করতে হবে।
পোকামাকড়ঃ পানিফলে পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেক কম। পানিফলে নিম্ন মাত্রায় বিটল পোকার সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। পানিফল বিটল গাছের পাতা খেয়ে গাছের ক্ষতি করে থাকে। এর ফলে ফলন কমে যায়। পোকামাকড় দমন ব্যবস্থাঃ পানিফলের বিটল পোকা দমনের জন্য প্রোক্লেইম এক লিটার পানিতে এক গ্রাম হারে দশ থেকে পনের দিন পর পর দুই থেকে তিন বার স্প্রে করলে বিটল পোকা দমন করা যায়।
সার ব্যবস্থাপনাঃ চারাগাছ লাগানোর আগে মূল জমি তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন জমিতে উপযুক্ত পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকে। যদি জৈব পদার্থ কম থাকে তখন খামার জাত জৈব সার হেক্টর প্রতি ৫ টন হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও চারাগাছ লাগানোর সময় হেক্টরপ্রতি ৩০-৪০ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে এবং গাছ লাগানোর ২০ থেকে ২৫ দিন পর পুনরায় প্রতি হেক্টরে ২০ কেজি ইউরিয়া দিতে হবে। অনুখাদ্য হিসেবে জিংক এবং বোরন ব্যবহার করলে ফলের সংখ্যা ও ফলের ওজন বৃদ্ধি পাবে। নতুন চাষের জমিতে হেক্টর প্রতি ৬০ কেজি ইউরিয়া, ২০ থেকে ৪০ কেজি ফসফরাস এবং ২০ থেকে ৪০ কেজি পটাশিয়াম ব্যবহার করতে হবে।
হেক্টর প্রতি ফলনঃ হেক্টরপ্রতি ৭.৫ থেকে ১০ টন ফলন হয়ে থাকে । তবে সঠিক পরিচর্যা পেলে হেক্টরপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যেতে পারে।


প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
 
Back