কৃষি প্রযুক্তি ভাণ্ডার
প্রযুক্তির বিবরণ
প্রযুক্তির নাম :চলনবিল এলাকায় কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তরমুজের সাথে রসুনের আন্তঃফসল
বিস্তারিত বিবরণ :
প্রযুক্তির বিবরণ: তরমুজ - রসুন আন্তঃফসল
জাত :রসুনের জন্য বারি রসুন-৩/ বারি রসুন-৪ এবং তরমুজের জন্য কৃষকের পছন্দমত বারি তরমুজ-১/স্থানীয় জাত ব্যবহার করতে পারে।
বীজ হার :রসুন ও তরমুজের জন্য যথাক্রমে হেক্টর প্রতি ৪০০ কেজি এবং ১-১.৫ কেজি। রসুন নভেম্বরের ২য় থেকে ৩য় সপ্তাহে এবং তরমুজ জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ২য় সপ্তাহ রোপন করতে হবে।
বপন/রোপন দূরত্ব:বিল এলাকার কৃষকেরা রসুন রোপনের ৪০-৪৫ দিন পর তরমুজ রোপন করে। রসুনের সারিতে ২ মিঃ দূরে তরমুজের চারা ২ মিঃ দূরে প্রতি ঢিবিতে ১টি করে গাছ রোপণ করতে হবে। রসুনের জন্য ১৫ সেঃমিঃ × ১০ সেঃমিঃ
সারের পরিমান (কেজি/হেক্টর): রসুন: হেক্টর প্রতি ৯০ - ৩০ - ৭৫ - ৩০ - ৩-১.৪ কেজি হারে ইউরিয়া-টিএসপি-এমওপি-জিপসাম- জিংক সালফেট -বোরন দিতে হবে। তরমুজ: হেক্টর প্রতি ১৫০ -১১০ - ৭৫ - ৭.৫ কেজি হারে ইউরিয়া-টিএসপি-এমওপি-জিপসাম দিতে হবে।
সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
আগাছা দমন: রসুন: বেশী আগাছা জমিতে যখন থাকে তখন প্রয়োজনে বপনের ১ দিন পূর্বে পেন্ডিমিথিলিন গ্রুপের আগাছানাশক প্রয়োগ করে বপনের পর খড়ের মালচ দিয়ে দেয়া হয় এবং বপনের পরে মোট ১ বার হাত দিয়ে আগাছা তুলে দিয়ে দমন করা হয়। তরমুজ: রোপনের পরে সময়মত একবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিস্কার করে দিতে হবে। মালচিং দুবার দিতে হবে, ১ম বার হালকাভাবে, দ্বিতীয়বার চারা লাগানোর ১৫-২০ দিন পর।
রোগবালাই ও পোকামাকড়: রোগবালাই: রসুনে সাধারনত ব্লাইট, সফট রট, ড্যাম্পিং অফ, ডাউনি মিলডিউ এবং পাতা ঝলসানো রোগ হয়। এসব রোগ দমনের জন্য ডাইথেন এম-৪৫/রোভরাল ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর স্প্রে করে দমন করা যায়। পোকামাকড়: রশুন সাধারনত থ্রিপস/চুঙ্গি পোকা, রেড স্পাইডার ও মাইট দ্বারা আক্রান্ত হয়। এসব পোকা দমনের জন্য ম্যালাথিয়ন/ডেইমেক্রন/জেসিড প্রতি লিটার পানিতে ১মিলি হারে স্প্রে করে দমন করা যায়।
ফসল সংগ্রহ : রসুন: রসুন মার্চের শেষ সপ্তাহ তরমুজ: এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ।
ফলন : রসুন: ৯-১১ টন/হেক্টর তরমুজ: ২৩-২৬ টন/হেক্টর\
আয়-ব্যয়:
বাজার মূল্য টাকা/কেজি তরমুজ: ২৫ এবং রসুন: ৫০
উপযোগিতা :বিল এলাকা
আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের বিল এলাকায় শুধুমাত্র বোরো ধানের আবাদ করা হয়। বোরো ধানের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য ফসল আবাদ করলে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তায় সহায়ক হবে। বোরো ধানের পূর্বে স্বল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল রসুনের জাত আবাদ করলে রসুন-তরমুজ ফসল ধারার উন্নয়ন হবে। স্থানীয় রসুনের জাতের পরিবর্তে কৃষি গবেষণা উদ্ভাবিত রসুনের জাত চাষের মাধ্যমে ফসল ধারা (রসুন+ তরমুজ-বোনা আমন) উন্নয়ন করা সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বোরো ধানের তুলনায় রসুনের কম পানির প্রয়োজন হয়। তাই ভূগর্ভস্থ পানির স্বল্প ব্যবহারের মাধ্যমে চলনবিল/বিল এলাকায় কৃষিতাত্ত্বিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা ও নিবিড়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
তরমুজের সাথে রসুনের আন্ত:ফসল
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
বিস্তারিত বিবরণ :
প্রযুক্তির বিবরণ: তরমুজ - রসুন আন্তঃফসল
জাত :রসুনের জন্য বারি রসুন-৩/ বারি রসুন-৪ এবং তরমুজের জন্য কৃষকের পছন্দমত বারি তরমুজ-১/স্থানীয় জাত ব্যবহার করতে পারে।
বীজ হার :রসুন ও তরমুজের জন্য যথাক্রমে হেক্টর প্রতি ৪০০ কেজি এবং ১-১.৫ কেজি। রসুন নভেম্বরের ২য় থেকে ৩য় সপ্তাহে এবং তরমুজ জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ২য় সপ্তাহ রোপন করতে হবে।
বপন/রোপন দূরত্ব:বিল এলাকার কৃষকেরা রসুন রোপনের ৪০-৪৫ দিন পর তরমুজ রোপন করে। রসুনের সারিতে ২ মিঃ দূরে তরমুজের চারা ২ মিঃ দূরে প্রতি ঢিবিতে ১টি করে গাছ রোপণ করতে হবে। রসুনের জন্য ১৫ সেঃমিঃ × ১০ সেঃমিঃ
সারের পরিমান (কেজি/হেক্টর): রসুন: হেক্টর প্রতি ৯০ - ৩০ - ৭৫ - ৩০ - ৩-১.৪ কেজি হারে ইউরিয়া-টিএসপি-এমওপি-জিপসাম- জিংক সালফেট -বোরন দিতে হবে। তরমুজ: হেক্টর প্রতি ১৫০ -১১০ - ৭৫ - ৭.৫ কেজি হারে ইউরিয়া-টিএসপি-এমওপি-জিপসাম দিতে হবে।
সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
| ১ম প্রয়োগ | ২য় প্রয়োগ | ৩য় প্রয়োগ |
| সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি জিপসাম এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপি জমি তৈরীর সময় দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপি দুই কিস্তিতে সমান ভাবে রসুন বপনের ২৫ দিন এবং ৫০ দিন পর দিতে হবে। এছাড়া জমিতে ছাই প্রয়োগ করলে মাটি আলগা থাকে এবং ফলন বেশী হয়। | তরমুজ চারা রোপনের ১৫ দিন পর ইউরিয়া সারের এক পঞ্চমাংশ, এবং এমওপি সারের এক তৃতীয়াংশ এবং অন্যান্য সারের অর্ধেক তরমুজের সারিতে ছিটিয়ে ছোট কোদাল দিয়ে হালকা ভাবে কোপ দিতে হবে। | ইউরিয়া (৩টি কিস্তিতে) ও এমওপি সারের (২টি কিস্তিতে) রসুন উঠানোর ৩৫ দিন পর এবং অন্যান্য সারের বাকি অর্ধেক তরমুজের সারিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। তরমুজ চারা রোপনের ৫৫ এবং ৭৫ দিন পরে ইউরিয়া ও এমওপি সার যথাক্রমে, ফুল ধরা আরম্ভ হলে, ফল ধরা আরম্ভ হলে পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে। |
আগাছা দমন: রসুন: বেশী আগাছা জমিতে যখন থাকে তখন প্রয়োজনে বপনের ১ দিন পূর্বে পেন্ডিমিথিলিন গ্রুপের আগাছানাশক প্রয়োগ করে বপনের পর খড়ের মালচ দিয়ে দেয়া হয় এবং বপনের পরে মোট ১ বার হাত দিয়ে আগাছা তুলে দিয়ে দমন করা হয়। তরমুজ: রোপনের পরে সময়মত একবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিস্কার করে দিতে হবে। মালচিং দুবার দিতে হবে, ১ম বার হালকাভাবে, দ্বিতীয়বার চারা লাগানোর ১৫-২০ দিন পর।
রোগবালাই ও পোকামাকড়: রোগবালাই: রসুনে সাধারনত ব্লাইট, সফট রট, ড্যাম্পিং অফ, ডাউনি মিলডিউ এবং পাতা ঝলসানো রোগ হয়। এসব রোগ দমনের জন্য ডাইথেন এম-৪৫/রোভরাল ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর স্প্রে করে দমন করা যায়। পোকামাকড়: রশুন সাধারনত থ্রিপস/চুঙ্গি পোকা, রেড স্পাইডার ও মাইট দ্বারা আক্রান্ত হয়। এসব পোকা দমনের জন্য ম্যালাথিয়ন/ডেইমেক্রন/জেসিড প্রতি লিটার পানিতে ১মিলি হারে স্প্রে করে দমন করা যায়।
ফসল সংগ্রহ : রসুন: রসুন মার্চের শেষ সপ্তাহ তরমুজ: এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ।
ফলন : রসুন: ৯-১১ টন/হেক্টর তরমুজ: ২৩-২৬ টন/হেক্টর\
আয়-ব্যয়:
| বারি রসুন-৩-আন্তঃফসল তরমুজ | রসুনের ফনল(টন/হেক্টর) | তরমুজের ফলন(টন/হেক্টর) | রসুনের সমতুল্যূ ফলন(টন/হেক্টর) | মোট আয় | মোট উদপাদন খরচ (টাকা/হেক্টর) | নীট মুনাফা (টাকা/হেক্টর) | আয় ও খরচের অনুপাত |
| রসুন /তরমুজ - (স্থানীয়) আন্তঃফসল | ৯.৮৯ | ২৬.৬৫ | ২৩.২২ | ১১৬০৭৫০.০০ | ২৪৭২৬৫.৬১- | ৯১৩৪৮৪.৩৯ | ৪.৬৯ |
| রসুন/ তরমুজ (বারি তরমুজ-১) আন্তঃফসল | ১০.৭৬ | ২৪.০৬ | ২২.৭৯ | ১১৩৯৫০০.০০ | ২৫৬২৬৫.৬০ | ৮৮৩২৩৪.৩৯ | ৪.৪৫ |
| রসুন (বারি রসুন-৩) | ১১.৩২ | ৫৬৬০০০.০০ | ১৯২৬২৩.২৬ | ৩৭৩৩৭৬.৭৪ | ২.৯৪ |
উপযোগিতা :বিল এলাকা
আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের বিল এলাকায় শুধুমাত্র বোরো ধানের আবাদ করা হয়। বোরো ধানের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য ফসল আবাদ করলে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তায় সহায়ক হবে। বোরো ধানের পূর্বে স্বল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল রসুনের জাত আবাদ করলে রসুন-তরমুজ ফসল ধারার উন্নয়ন হবে। স্থানীয় রসুনের জাতের পরিবর্তে কৃষি গবেষণা উদ্ভাবিত রসুনের জাত চাষের মাধ্যমে ফসল ধারা (রসুন+ তরমুজ-বোনা আমন) উন্নয়ন করা সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বোরো ধানের তুলনায় রসুনের কম পানির প্রয়োজন হয়। তাই ভূগর্ভস্থ পানির স্বল্প ব্যবহারের মাধ্যমে চলনবিল/বিল এলাকায় কৃষিতাত্ত্বিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা ও নিবিড়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
তরমুজের সাথে রসুনের আন্ত:ফসল
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।